পায়রা-কুয়াকাটায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ষ্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালীতে বিমানবন্দর নির্মাণ উপযুক্ত হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ওই অঞ্চলে বিমানবন্দরের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। তিনি জানান, পায়রা–কুয়াকাটা অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে এবং বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা ঘিরে সুনীল অর্থনীতির আওতায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনেও সরকার ব্যবস্থা নেবে। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

বরগুনা-২ এর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেই উল্লেখ ছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি’ প্রণয়ন করেছিল, যা উপকূল উন্নয়ন ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারও সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা (MSP) এবং সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রয়োজন হলে ২০২৬–২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, উপকূলীয় বিশাল অঞ্চলে বড় জনগোষ্ঠী বসবাস করে এবং যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে কুয়াকাটাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের শৈশব স্মৃতির কথা তুলে ধরে জানান, পায়রা–কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে যেই ইকো ট্যুরিজম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ছাড়া পটুয়াখালী–কুয়াকাটা নিয়ে যে অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান হচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী নদীভাঙন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বগুড়া থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বহু এলাকা নদীভাঙনের শিকার। নদীশাসন ও বর্ষার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে খাল খনন অত্যন্ত জরুরি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া এ উদ্যোগ বর্তমান সরকার আবারও সক্রিয়ভাবে চালু করেছে।

তিনি আরও বলেন, পটুয়াখালীতে বিমানবন্দর নির্মাণ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। তবে কোনো বেসরকারি এয়ারলাইন্স কুয়াকাটায় ফ্লাইট চালাতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে দেবে। লোকসানি প্রকল্প করে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বেসরকারি স্কুল পরিচালনায় সরকারের গাইডলাইন আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় সংসদ সদস্যদের কোনো পরামর্শ থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সরকার সেই অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষক কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ উপকৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *