বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা, ডিজেলে ১৫ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের কেরোসিনের দামও ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেলের বাড়তি চাপ, উপচে পড়া ভিড় এবং চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। তবে সরকার বলছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকলেও আতঙ্কে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনছে এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জেট ফুয়েলের দামও কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। গত ৭ এপ্রিল বিইআরসি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের লিটারপ্রতি দাম বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা নির্ধারণ করে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে লিটারপ্রতি মাত্র দুই টাকা কমানো হলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সহ্য করতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। নতুন দাম কার্যকরের ফলে পরিবহন খাতসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।









