ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই দেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী **শুভেন্দু অধিকারী** সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি কূটনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে মঙ্গলবার (১২ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র **রণধীর জয়সওয়াল** বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্তকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হচ্ছে। তবে এতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না—সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্তরক্ষা বাহিনীকে দেড় মাসের মধ্যে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এই ঘোষণার পর বাংলাদেশ থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা **হুমায়ুন কবির** বলেন, কাঁটাতারের বেড়া দেখিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর সময় শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার এসবকে ভয় পায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দিল্লির ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গও তোলা হয়। রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রায় ২,৮৬০ জনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতের দাবি, তারা বাংলাদেশি নাগরিক; তবে এখনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
এসময় তিস্তা প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী **খলিলুর রহমান** সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পে বেইজিংয়ের অংশগ্রহণ চাওয়ার খবর জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ে ভারত সবসময় নজর রাখে এবং পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল বাংলাদেশে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে কি না—এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত এখনো বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের অবস্থানই বজায় রেখেছে।









