সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য ও পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা আব্দুল মুহিত এবং বিএনপি নেতা শাহাদীব মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রতন মিয়া শাহাদীব মেম্বারের সমর্থক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহাদীব মেম্বার এবং আলিনগর গ্রামের যুবলীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে, পাশাপাশি সপ্তাহখানেক আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার পর এলাকা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার বিকেলে ভাটিপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শাহাদীব মেম্বারকে প্রতিপক্ষের লোকজন আটকিয়ে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
আহতদের মধ্যে আব্দুল মুহিতের পক্ষের প্রায় ২০ জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাহাদীব মেম্বারের পক্ষের আহত ১০ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত আল আমিন ও সোনাই মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দুজনই পলাতক থাকায় তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি; তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি এখন শান্ত, এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









