বিধানসভা নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ফলাফলে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে। সোমবার (১১ মে) এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে—২০২১ সালের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ দশমিক ৮ লাখ নাম বাদ পড়ার ফলে এবার বহু আসনের ফল উল্টে গেছে। যে ৩১টি আসনে ২০২১ সালে তৃণমূল জয়ী হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই এবার বিজেপির হাতে চলে গেছে।
আদালতে শুনানির সময় তৃণমূলের সাংসদ ও সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই ৩১টি আসনের প্রতিটিতে বাদ দেওয়া ভোটারের সংখ্যা আগের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। কিছু আসনে এই সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার উদাহরণ অনুযায়ী, এক আসনে তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৮৬২ ভোটে পরাজিত হন, অথচ সেই আসনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল ৫ হাজারের বেশি নাম। পুরো রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ও বিজেপির মোট ভোটের পার্থক্য যেখানে প্রায় ৩২ লাখ, সেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত ৩৫ লাখেরও বেশি আবেদন এখনো নিষ্পত্তিহীন রয়েছে।
বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানান, কোনো আসনে জয়ের ব্যবধান এত কম হলে যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতে আবেদন দাখিল করতে পারে। আগের শুনানিতেও আদালত এমন পিটিশন গ্রহণযোগ্য হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনও মামলার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ ধরনের আবেদন দাখিলের সুযোগ রয়েছে বলে মত দেয়।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা তথ্য তুলে ধরে জানায়, যে সব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে—বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদ এলাকার আসনগুলো—সেখানেও তৃণমূলই বিজয়ী হয়েছে। ইসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুজাপুরে ১ দশমিক ৫০ লাখ, রঘুনাথগঞ্জে ১ দশমিক ৩০ লাখ, সামসেরগঞ্জে ১ দশমিক ২৫ লাখ, রতুয়ায় ১ দশমিক ২৩ লাখ এবং সূতিতে ১ দশমিক ২০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হলেও এসব আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে।









