জামিন পেলেন শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী

ষ্টাফ রিপোর্টার

জামিন পেয়েছেন দেড় মাস বয়সী শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট দাখিল হওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিন নামঞ্জুর করেন। সিদ্ধান্তের পর কাইফা ইসলাম সিমরান নামের দেড় মাসের সন্তানকে বুকে চেপে কাঁদতে কাঁদতে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয় শিল্পীকে। মায়ের দায়িত্ব পালন করতে করতে আদালতের বেঞ্চে বসে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সেই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে শিল্পী বেগম সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনি এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও সেই সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের।

শুনানিতে শিল্পীর আইনজীবী জানান, তিনি সিজারিয়ান অপারেশনের পর সুস্থ হওয়ার পর্যায়ে আছেন এবং তার ১ মাস ১৬ দিনের শিশু সন্তানের দেখভালের প্রয়োজন রয়েছে। যে কোনো শর্তে জামিন দেওয়ার আবেদন জানানো হলেও আদালত তা নাকচ করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার সহপাঠীদের ওপর হামলা চালান। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় শিল্পীর নির্দেশে সশস্ত্র একটি দল রাতুলের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাটসহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয় এবং রাতুলের বাবা সোহেল রানাকে মারধর করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *