জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে শুরু থেকে বিএনপি একমত থাকলেও সরকার গঠনের পর তারা অবস্থান বদলেছে। তার মত, এটি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা এবং জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জুলাই সনদে এনসিপি ছাড়া সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। এরপর রাষ্ট্রপতির আদেশ এবং ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ জারি হলে একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় চার মাস বিএনপি কোনো আপত্তি না তুললেও সরকার গঠনের পর সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে তারা ভিন্ন মত প্রকাশ করছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তারাই এখন এর বৈধতা অস্বীকার করছেন। অথচ গণভোটে জনগণ পরিষ্কারভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষেই রায় দিয়েছে। জুলাই সনদ ও গণভোটকে আলাদা করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও গণভোটে সে সুযোগ ছিল না এবং ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিএনপির আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরে তিনি মনে করিয়ে দেন— প্রধানমন্ত্রী যেন একই সঙ্গে দলীয় প্রধান থাকতে না পারেন, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালুর বিষয়টি, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে আলাদা সার্চ কমিটি গঠন এবং বিচারপতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মতো প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে জুলাইয়ের রক্তদান বৃথা যাবে। তার অভিযোগ, বর্তমান কাঠামোয় প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছামতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ দিতে পারেন, যা ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
পার্লামেন্টের আগামী অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, তারা সংঘাত বা সহিংসতা চান না; সংসদের ভেতরেই গঠনমূলক উপায়ে সমাধান চান।
বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি—এই প্রশ্নের উত্তর বিএনপিকেই দিতে হবে। অতীতে বিএনপি নেতারা জামায়াতের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেছিল বিএনপির অনুরোধে, কারণ সেই সময়ে তাদের নিবন্ধন ছিল না এবং জোটগত সম্পর্কের কারণেই এক প্রতীকে নির্বাচন করা হয়েছিল।









