ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদি পৌঁছে বিজেপির সদর দপ্তরে কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর—সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহারের ফল প্রকাশের দিনই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে পৌঁছায়। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়।
মোদি বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক ঘটনা। এটি গণতন্ত্র ও সংবিধানেরই জয়। পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে তিনি ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, রাজ্যে বিজেপির জয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে এবং বাংলায় পরিবর্তন ঘটেছে—এ দিন থেকেই রাজ্য ভয়মুক্ত হয়েছে। তিনি বিজেপির কোটি কর্মীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটের ধারা স্পষ্ট হওয়ার পরই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিজেপির নেতাকর্মীরা বিজয় উদ্যাপন শুরু করেছেন। পাশাপাশি নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচন-পূর্বাভিযানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন বাঙালি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্ত।
রাজ্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত তিনি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আবেগ ও সমর্থন অর্জন করেছিলেন।
তবে এবারের নির্বাচনে সেই সমীকরণ বদলে গেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি এখন পর্যন্ত ১৯৮টি আসনে জয় পেয়েছে, আর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮৯টি। পরিবর্তনের এই ধারা রাজনৈতিক বাস্তবতার নতুন চিত্র তুলে ধরছে—পশ্চিমবঙ্গ প্রথমবারের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, যা প্রতীকীভাবে ‘পদ্মফুলের উত্থান’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।









