চুয়াডাঙ্গায় মরদেহ আটকে সুদের টাকা আদায়

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে এক চরম হৃদয়বিদারক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র।

ঘটনাটি ঘটে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর)। গ্রামের নতুনপাড়ার রাজমিস্ত্রী হারুন (৪৫) শনিবার মেয়ের বাড়ি মেহেরপুরের মহাজনপুরে বেড়াতে গিয়ে রোববার সকালে স্ট্রোকে মারা যান। মরদেহ নিজ গ্রামে আনা হলে পরিবার-পরিজন ও গ্রামজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। আসরের নামাজের পর দাফনের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই ঘটে অকল্পনীয় অমানবিকতা।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মরদেহ গোসলের সময় প্রতিবেশী মর্জিনা খাতুন দাবি করেন, হারুনের কাছ থেকে তিনি সুদের টাকা পাবেন। সরাসরি তিনি জানিয়ে দেন— টাকার হিসাব মেটানো না হলে মরদেহ দাফন করতে দেবেন না। শোকাহত পরিবার মরদেহ পাশে রেখে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, আর ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান আশপাশের মানুষ। প্রায় এক ঘণ্টা অচলাবস্থার পর শেষমেশ পরিবার কষ্ট করে ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে মরদেহের খাটিয়ার ওপর রাখে। টাকা হাতে নিয়েই সেখান থেকে সটকে পড়েন মর্জিনা খাতুন।

নিহত হারুনের চাচাতো ভাই মতিনুর ইসলাম মানিক জানান, হারুন দেড় মাস আগে মর্জিনার কাছ থেকে আট হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর মরদেহ গোসলের সময় তিনি সুদসহ ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। দাফনের পর বিষয়টি মীমাংসা করা হবে জানালেও তিনি রাজি হননি। গরু জামানত রাখার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ পর্যন্ত ২২ হাজার থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার টাকা আদায় করে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেন।

মানিক আরও অভিযোগ করেন, মর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা করছেন। গ্রামীণ পরিবারগুলোকে সর্বনাশে ঠেলে দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন, এজন্য কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হারুন জীবিত অবস্থায় মূল টাকা পরিশোধ করেছিলেন। মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায় করা সমাজের জন্য ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক কাজ।”

গ্রামের প্রবীণরা বলেন, “আমরা জীবনে অনেক কিছু দেখেছি, কিন্তু মরদেহ আটকে টাকা আদায়ের ঘটনা এই প্রথম। মৃত মানুষের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু লোভ নয়, সমাজের জন্য কলঙ্ক।”

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *