৩০ উপজেলায় হামের জরুরি টিকাদান শুরু রোববার

ষ্টাফ রিপোর্টার

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় আগামীকাল রোববার থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সংক্রমণের উচ্চহার বিবেচনায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১২ লাখ ৩ হাজার শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী বরগুনা সদর, মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, নলছিটি, হাইমচর, চাঁদপুর সদর, মহেশখালী, রামু, নবাবগঞ্জ, গাজীপুর ও মাদারীপুর সদর, জাজিরা, লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ সদর ও শ্রীনগরসহ মোট ৩০টি উপজেলাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঈশ্বরদী, পাবনা সদর, আটঘরিয়া, বেড়া, নাটোর সদর, পোরশা, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, ভোলাহাট, গোদাগাড়ী, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ সদর, ফুলপুর ও আটপাড়ার শিশুরাও এই কার্যক্রমের আওতায় আসবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রতি দশ লাখ মানুষের মধ্যে ১৬ দশমিক ৮ জন হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সংক্রমণে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বরগুনা সদর উপজেলা, যেখানে সংক্রমণ হার ২৯৫। এখানে টিকা পাবে ৩৬ হাজারের বেশি শিশু। পাবনা সদরে সংক্রমণ হার ১৮০ এবং চাঁদপুর সদরে ১৪৪; দুই উপজেলাতেই হাজার হাজার শিশুর টিকা পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৯২ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭১ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক ৯৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হাম। বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।

জরুরি এই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠক করছে। তবে মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জেলায় স্বাস্থ্য সহকারীর ৩০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য থাকায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে একজন সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরও কয়েকটি উপজেলা নতুন করে তালিকায় যুক্ত হতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *