ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে শুরু হয়ে টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই সহিংসতায় পুলিশসহ উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ ও কিশোরসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের তিন যুবক আখের রস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়, যাতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও ভোরের পর আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে যায়। মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন একদিকে, আর অপরদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের চালাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে দুই পক্ষ বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো মুনসুরাবাদ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা প্রয়োজন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।









