তৃতীয় একদিনের ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ের পর পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই প্রতিপক্ষের শীর্ষ ব্যাটারদের ছিটকে দেন বাংলাদেশের পেসাররা। চাপে পড়া পাকিস্তানের হয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলি আগা, কিন্তু রুদ্ধশ্বাস শেষ মুহূর্তে ১১ রানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে এটি ছিল নির্ধারণী ম্যাচ, যেখানে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয় পেল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রতিপক্ষকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়েছিল টাইগাররা।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাত্র ১৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে তাণ্ডব চালান তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান তাসকিন। এরপর নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে, আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে রিজওয়ানকে তুলে নেন তাসকিন।
গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। একশর আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। এমন অবস্থায় দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সালমান আলি আগা। তাকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছিলেন সাদ মাসুদ। অভিষিক্ত এই ব্যাটার ৩৮ রানে আউট হন মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে।
ফাহিম আশরাফকে ৯ রানে বোল্ড করে ফেরান তাসকিন। চার উইকেট নিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার।
এর আগে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সূচনা করে স্বাগতিকরা। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। শাহীনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে সাইফ হাসান করেন ৫৫ বলে ৩৬ রান।
ভালো শুরু পেলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ২৭ রানে হারিস রউফের বলে আউট হন। অন্যদিকে অভিষেক সেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৯৮ বলে ১০৭ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কা।
লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ৬৮ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। লিটন ৪১ রানে আউট হলেও তাওহীদ হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৪৮ রানে। তাকে সঙ্গ দেন আফিফ হোসেন, যিনি ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ নেন তিন উইকেট। আবরার আহমেদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি নেন একটি করে উইকেট।









