দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে বুধবার অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। পটুয়াখালীতে চারজন, জামালপুরে দুইজন, বরগুনায় দুইজন, আর ময়মনসিংহ, বাগেরহাট, রংপুর ও রাজবাড়ীতে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। বজ্রপাতের সময় বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকা মানুষ ছাড়াও কয়েকজন নদী ও মাঠে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। পাশাপাশি পটুয়াখালীতে গত দুই দিনে বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরু মারা গেছে।
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সকালে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সাদ্দাম হোসেন (৩২) বজ্রপাতে মারা যান। স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। বাগেরহাট সদরের সরকারডাঙ্গা গ্রামে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামে এক দিনমজুর মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রংপুরের তারাগঞ্জে বাড়ির পাশে খড়ি তুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ীর মজ্জৎকোল গ্রামে সকালে মেয়েকে কোলে নিয়ে দোকানে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) মারা যান। বজ্রাঘাতে মেয়েটি ছিটকে পড়ে সামান্য আঘাত পেলেও এখন সুস্থ আছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া ও আশপাশের এলাকাগুলোতে চারজন মারা গেছেন। গরু বাঁধতে যাওয়া, ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করা কিংবা পশুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে তারা বজ্রপাতে প্রাণ হারান। একই জেলার বিভিন্ন স্থানে গত দুই দিনে অন্তত ৫০টি গরুরও মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুরে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় শামীম মিয়া (৩৫) এবং রাস্তার কাজ করতে থাকা শ্রমিক সাগর ইসলাম (১৮) বজ্রপাতে মারা যান। বরগুনার পাথরঘাটা ও আমতলীতেও পৃথক ঘটনায় দুইজন প্রাণ হারান—একজন জেলে ও একজন কৃষক। আমতলীতে নিহত কৃষকের পরিবারের কাছে স্থানীয় প্রশাসন মানবিক সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেছে।
প্রতিটি ঘটনায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে বজ্রপাতেই এসব মৃত্যু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।









