জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ যেন কোনোভাবে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের স্থানে পরিণত না হয়; এটি হওয়া উচিত জনকল্যাণ ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সংসদে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ২৪ জুলাইয়ের রক্ত ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই বিরোধ, বিভাজন বা প্রতিহিংসা নয়—সরকার ও বিরোধী দলের সকলের জন্য স্পিকারের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করি। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদ হওয়া, নির্যাতিত, আহত ও পঙ্গু হওয়া মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১, নব্বইয়ের গণআন্দোলন, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন সময়ের সব আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা দেশের গণতন্ত্র ও অধিকার পুনরুদ্ধারের মূল শক্তি। বিশেষ করে ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বর্তমান সংসদ গঠনের পথ তৈরি করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শহীদদের জন্য দোয়া করে তিনি বলেন, আল্লাহ যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন এবং আহত–পঙ্গুদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন। এ সময় নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করতে হবে, কারণ স্পিকার সবার।
তিনি বলেন, আপনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন—এখন সরকারি দল ও বিরোধী দলের কেউই আপনার কাছে আলাদা হবে না। আমরা আপনার কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।
সংসদীয় রাজনীতির অতীত পর্যালোচনায় তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিক্রম করলেও অনেক সময় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি; কখনো ফ্যাসিবাদের কবলে পড়েছে, কখনো ব্যক্তিগত চরিত্র হননের রাজনীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সংসদ যেন জাতীয় সমস্যা সমাধানের জায়গা হয়, ব্যক্তিগত আক্রমণের মঞ্চ না হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে অনেক তরুণ সদস্য আছেন। তাদের নেতৃত্বে নতুন ধারার গঠনমূলক ও ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সংসদ ২৪ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সে আন্দোলনের স্লোগান ছিল—ন্যায় চাই। আজ আবারও আমরা সেই আহ্বান জানাচ্ছি—ন্যায় চাই, ন্যায় প্রতিষ্ঠা চাই। তিনি প্রত্যাশা করেন, সংসদের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব ধরনের অসঙ্গতি দূর হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।









