পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারীপ্রধান পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, আগামীকাল রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। পরিবারের প্রধান হিসেবে নারীকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নামে কার্ড প্রদান করা হলে সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। কোনো পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে সেই অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত উপকারভোগীরা মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন এবং ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্য সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তিনি জানান, কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান আগে কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকলে সেটি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের ভাতা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে পারবেন। উপকারভোগী নির্বাচন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে করা হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী ও রেমিট্যান্স প্রবাহসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে প্রক্সি মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
মন্ত্রী জানান, শুরুতে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তবে যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে একটি করে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে।








