বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে মো. ফাহিম হাসান (১৯) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহিম বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবারের অভিযোগ, বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাবে সম্মতি না পাওয়ার প্রতিশোধ নিতে তনয় নামের এক ছাত্রলীগ নেতা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে ফাহিমের ওপর তনয় হঠাৎ হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা আরও অবনতি হলে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বেলা পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হামলায় সাব্বির শেখ নামে আরও একজন আহত হন।
নিহতের পরিবার জানায়, ফাহিমের বোনকে বিয়ে করতে না পারায় তনয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ব্যক্তিগত আক্রোশের পাশাপাশি ফাহিমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও উত্তেজনা বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
ফাহিমের বোনের স্বামী সেতু মিয়া বলেন, এর আগেও তনয় তাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিমের ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা হামলাকারীদের আরও ক্ষুব্ধ করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত তনয় পলাতক রয়েছেন। নিহতের মরদেহ শজিমেক হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।









