১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতা ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন আবারও রক্ষা করেছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ আন্দোলন প্রমাণ করেছে—দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন চায় শিক্ষাব্যবস্থায়, চিকিৎসা সুবিধায় এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে, যে অধিকার জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমালোচনার মধ্যে থাকলে মানুষের উন্নয়ন হয় না। জনগণ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেতে চায়।”
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানেই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং এখানেই খালেদা জিয়া ‘দেশনেত্রী’ উপাধি পান। “চট্টগ্রামের সঙ্গে আমাদের পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাত পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষাকে আধুনিক ও আনন্দমুখী করতে চাই। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে।”
কৃষি নিয়ে তিনি বলেন, “কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষকদের সহায়তা দিতে হবে। এজন্য কৃষক ও কৃষাণীদের হাতে দেওয়া হবে কৃষক কার্ড, যার মাধ্যমে তারা স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারবেন।”
নারী উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। “আমরা নারীদের আরও স্বাবলম্বী করতে পরিবারভিত্তিক সহায়তা ও ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দেব,” জানান তিনি।
দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “ক্ষমতায় গেলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। অপরাধী যেই হোক ছাড় পাবে না।” একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে তারেক রহমানের গাড়ি পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রবেশ করলে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল। হাত নেড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান হাস্যোজ্জ্বল বিএনপি চেয়ারম্যান।
এর আগে ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি। এটি তার প্রচার অভিযানের দ্বিতীয় পর্ব।









