যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনা করছে ইরান। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের দাবি, ইরানের সঙ্গে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য এটিকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘পছন্দের তালিকা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের অবস্থান পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানানো হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা ১৪ দফা প্রস্তাব ভবিষ্যতের বিস্তারিত পারমাণবিক সমঝোতার ভিত্তি হতে পারে। এতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা ও একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও প্রস্তাবটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। পর্যালোচনা শেষ হলে পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানানো হবে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে এবং আলোচনার টেবিলেও তারা অতিরিক্ত কিছু অর্জন করতে পারবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় ছাড় না পেলে ইরান কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পও নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আরও তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান প্রস্তাব মেনে নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বন্ধ হয়ে যাবে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় সেটি সমাপ্ত করা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এখন চুক্তি করতে আগ্রহী। তার ভাষায়, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনা ইতিবাচক ছিল এবং খুব সম্ভবত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।









