রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর অবসরোত্তর ভিভিআইপি মর্যাদা কমাল সরকার

ষ্টাফ রিপোর্টার

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছয় মাস পর্যন্ত ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে নতুন প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে সরকার। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করেছিল। বর্তমান সরকার সেই মেয়াদ কমালেও ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে পূর্বের এক বছরের সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দায়িত্ব ছাড়বেন এমন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৩ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১ অনুসারে আগের প্রজ্ঞাপন বহাল রেখে দায়িত্ব ছাড়ার পর ছয় মাসের জন্য পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের ভিভিআইপি মর্যাদা প্রদান করা হবে। একাধিক সূত্রও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. ইউনূস। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন। ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন, যেখানে সুবিধার মেয়াদ এক বছর করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সুবিধা রেখে বাকিদের ক্ষেত্রে মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে ড. ইউনূসের ভিভিআইপি সুবিধা এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস করার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। সেই নথিতে ২০০১ সালে ভিভিআইপি সুবিধার মেয়াদ এক বছর, আর ২০০২ ও ২০০৬ সালে তা তিন মাস নির্ধারণের উল্লেখ করে মেয়াদ ছয় মাস করার সুপারিশ করা হয়েছিল। প্রস্তাবে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় ভিভিআইপি ঘোষণার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা মেয়াদ নির্ধারণ না থাকায় পূর্বদৃষ্টান্তের ভিত্তিতে নতুন সময়সীমা ঠিক করার কথা বলা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ড. ইউনূসের জন্য আগের এক বছরের সুবিধা রেখে অন্যদের ক্ষেত্রে মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *