কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মরদেহ রোববার বিকেলে দেশে ফিরছে। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান। গত সোমবার রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল এবং ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজে তার চিকিৎসা চলছিল।
পরিবারের বরাতে জানা গেছে, কারিনার মরদেহবাহী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে ঢাকা পৌঁছাবে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বনানী ডিওএইচএসে, যেখানে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর এশার আগে বনানী দরবার শরিফ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা হবে। রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তৃতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হবে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার আবদুল্লাহপুর গ্রামে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেখানে চতুর্থ জানাজা শেষে মায়ের দান করা মসজিদের জমির পাশে তাকে দাফন করা হবে।
প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর কারিনার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর তার ফুসফুসের চিকিৎসা ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতি চলছিল, তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে গেলে আর তাকে বাঁচানো যায়নি।
১৯৯৪ সালের ১১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া কারিনা কায়সারের বয়স ছিল ৩৩ বছর। কনটেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি তিনি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখায়ও যুক্ত ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা তার হাসিখুশি স্বভাব, প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং সৃজনশীলতার স্মৃতি স্মরণ করছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দুই ভাই রেখে গেছেন।









