রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের প্রথম সরকার মাত্র ১৫ দিনের জন্য ফারাক্কার দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, অথচ ৫৫ বছরেও সেই ১৫ দিনের মেয়াদ শেষ হয়নি। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা নদী শুকনা মৌসুমে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে আর বর্ষায় দুর্ভোগ বাড়ছে। সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে—এটি প্রশংসনীয় হলেও তা যেন লোক দেখানো না হয়। একইসঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজন করা এই বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশ ২০ কোটি মানুষের এবং এই দেশ রক্ষায় সবাইকে সৎ পাহারাদারের মতো দাঁড়াতে হবে। তিনি দাবি করেন, অধিকার কেউ দান করবে না, লড়াই করেই তা আদায় করতে হবে। তার ভাষায়, যাদের নেতারা হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াতে পারে, তাদের ভয় দেখানোর শক্তি কারও নেই।
প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা যেন বাংলাদেশের দিকে লাল চোখ না দেখায়। এটি তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ এবং শাহ মকদুমের দেশ—এই দেশের দিকে চোখ রাঙালে জনগণ তা প্রতিহত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদার দেশ, এবং এ ঐতিহ্যে কেউ আঘাত করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক, বীমা ও করপোরেশনগুলোর লুটপাটের কারণে অর্থনীতি বিধ্বস্ত। বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ আলোচনা হচ্ছে ৫৫ বছর আগের ইতিহাস ঘিরে বাহাদুরি দেখানো নিয়ে। তার মতে, ইতিহাস চর্চা হবে শিক্ষা নেওয়ার জন্য, পিছন ফিরে তাকিয়ে সামনে এগোনো যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার কারণে দেশের এক-চতুর্থাংশ অঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।
তিস্তা ইস্যুতে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একজন মন্ত্রী তিস্তা পাড়ে বড় আয়োজন করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কাউকে ভয় না পেয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। পদ্মায় পানি ফিরিয়ে আনা দেশের ন্যায্য অধিকার। তার দাবি, দেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদী আজ মৃতপ্রায়—নদী শুকিয়ে গেলে খালেও পানি থাকবে না। তাই নদী-খাল দুটিরই সুষ্ঠু পুনর্গঠন জরুরি।
সরকারের বিরুদ্ধে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব বাস্তবায়ন না করলে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নেও সরকার বাধ্য হবে।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।









