হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা এবং সিরিঞ্জ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছে দুজন আইনজীবী। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ এবং ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন জমা দেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে শিশুদের জীবনের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। হাম ও অন্যান্য টিকা ক্রয় ও ব্যবহারে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, সারাদেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব এবং প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যু বিষয়টি তাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। সরকারি টিকার সংকট, টিকা না পাওয়ায় হামের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনাবলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অনেকে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারও টিকা ও সিরিঞ্জের ঘাটতিকে পূর্ববর্তী সরকারের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও টিকা ক্রয়ে পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনে এবং সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা ও সিরিঞ্জ সরবরাহে ব্যর্থ হয়। এর ফলে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং একে মহামারি আকার ধারণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়, পর্যাপ্ত বাজেট থাকা সত্ত্বেও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো না কিনে সেগুলো গোপন রাখা, ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা এবং ব্যয়ের যথাযথ তথ্য প্রকাশ না করা দুর্নীতি ও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।









