ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি। ফলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোটের আগে শেষ কর্মদিবসেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নগরবাসীর ঢল নামে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে। কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকলেও অনেকের ভোট নিবন্ধিত নিজেদের গ্রামের বাড়িতে—তাই ভোট দিতে বাড়ি ফেরার তাগিদে সায়েদাবাদে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
মঙ্গলবার রাত ৮টার পর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় দেখা যায়, হাজারো যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু বাসের সংখ্যা হাতে গোনা। অনেকেই অভিযোগ করেন, ঈদের সময়ও এমন ভিড় বা বাস সংকট দেখা যায়নি। যাত্রীর অভিযোগ—ইচ্ছাকৃত সংকট তৈরি করে মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, যাত্রাবাড়ী ও আশপাশে যানজটের কারণে বাসগুলো ঢাকায় প্রবেশ করতে পারছে না, ফলে টার্মিনালে বাস কম।
দুই বোনকে নিয়ে লাকসাম যাচ্ছিলেন আরিফ হোসেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “লাকসামে ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু ৫০০–৬০০ টাকার নিচে কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। ইচ্ছেমতো ভাড়া নিলেও দেখার কেউ নেই।”
লক্ষ্মীপুরগামী যাত্রী মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “বিকেল ৩টায় এসেছি, এখনও গাড়ি পাইনি। ভাড়া সাধারণত ৫০০ টাকা, এখন চাইছে এক হাজার। এত ভাড়া দিয়ে যাব না, না পেলে বাসায় ফিরে যাব।”
কুমিল্লাগামী সাদিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের সময়ও এত ভিড় দেখিনি। যাত্রী অসংখ্য, কিন্তু বাস নেই। সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে।”
জোনাকি সার্ভিসের কাউন্টারের সামনে রাত সাড়ে ৮টার দিকে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত ভাড়া ও বাস সংকট নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কাউন্টার কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে কাউন্টারের সাটার নামিয়ে দেওয়া হয়।
সায়েদাবাদ রেললাইন এলাকার পূর্ব পাশে যেখানে সাধারণত বাস সারিবদ্ধ থাকে, সেখানেও দেখা গেছে দু-একটি মাত্র বাস। বাস না পেয়ে শত শত যাত্রী অপেক্ষা করছিলেন।
এক কাউন্টার কর্মী দাবি করেন, যানজটের কারণে বাসগুলো ঢাকায় ঢুকতে দেরি করছে, বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তবে现场 চিত্র বলছে বিপরীত। বরিশালগামী এক বাসকর্মী সুজন মিয়া ভাড়া ডাকছিলেন ৮০০ টাকা, যেখানে সাধারণ সময়ে ভাড়া ৪০০–৫০০ টাকার মধ্যে থাকে।
যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, দোলাইপাড়, শনিরআখড়া ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি—ফলে টানা চার দিন ছুটি কাটাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।









