জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব ও নির্বাচনি পরিবেশ বিশ্লেষণ করে নতুন এক গবেষণা জানাচ্ছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপির প্রতি সমর্থন ঝুঁকছে। বাকি ৫২ শতাংশ অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এ গবেষণায় ভোটারদের রাজনৈতিক ঝোঁক, পছন্দ ও নির্বাচনি বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। আলোচক হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন লেখক ও সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে পরিচালিত এই জরিপে স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এতে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের আগ্রহ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারণা ও সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী। লিঙ্গ, বয়স বা শিক্ষাগত যোগ্যতা—কোনো ক্ষেত্রেই ভোটের প্রতি আগ্রহে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। তবে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন।
প্রতিবেদনে দুর্নীতিকে প্রধান জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখেছেন ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার। ধর্মীয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ভোটাররা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনগণের জন্য কাজ করেন—এমন দায়িত্বশীল ও জনদরদি নেতৃত্বকে বেশি মূল্য দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক তথ্যের ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। বেশিরভাগ ভোটার একাধিক উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ভয়ভীতি, জালিয়াতি বা ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে। নির্বাচনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গবেষণায় আরও জানা যায়, প্রথমবার ২০০৮ সালের পর ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন। ভোটের ক্ষেত্রে প্রার্থীই প্রধান বিবেচ্য—এমন মত দিয়েছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটার। অনেকেই প্রার্থী ও দল—উভয় বিষয় মিলিয়ে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।









