আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণই তাদের একমাত্র শপথ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারও দেশের মানুষ ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় বিসিক শিল্পপার্কে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জনগণ এখন দেখতে চায় কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী পরিকল্পনা দেয়। বিএনপিরই একমাত্র অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল দেশ পরিচালনায় সক্ষম নয়।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মানুষই মুখ্য। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে।”
তিনি সিরাজগঞ্জের মেরি নামের এক নারীসহ ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে নির্যাতিত হাজারো মানুষের কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দিতে হলে ১২ তারিখের নির্বাচনে সোচ্চার হতে হবে।
সিরাজগঞ্জ ও পাবনার উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা, নতুন শিল্পপার্ক স্থাপন ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে অগ্রাধিকার। এ অঞ্চলের তাঁতশিল্পকে বিশ্ববাজারে পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান, প্রয়োজনীয় বীজ-সার ঘরে পৌঁছে দেওয়া, তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও বিদেশগামীদের দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
তিনি আরও বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
তারেক রহমান জনগণকে সতর্ক করে বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যেন আবার তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়, সে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনসভায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিএনপির বিভিন্ন প্রার্থী ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।









