বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশের মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আরও জানান, কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে এবং জামায়াত সরকারে না এলেও এই দাবি বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করা হবে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবসমাজ বেকার ভাতা নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকারের জন্য লড়াই করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা নিপীড়িত হওয়ার কথা ছিল, তারা নিপীড়ক হয়ে উঠেছে। জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের জবাব দেবে।
মায়েদের অপমান করা হলে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের আবারও মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে প্রতিশোধের রাজনীতি না করে সুনীতি ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি এগিয়ে নেওয়া হবে।
জামায়াত আমির বলেন, বিভাগ ঘোষণার আগে কুমিল্লা বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করতে হবে এবং কুমিল্লা ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।
তিনি দাবি করেন, ১/১১–পরবর্তী সময়ে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস বন্ধ হয়নি বা প্রতীক বাতিল করা হয়নি, অথচ জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি গুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “৩৬ জুলাই আমরা সেজদায় শুকরিয়া আদায় করেছি। আমরা কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না।”
ডা. শফিক অভিযোগ করেন, শিল্পপতি থেকে ফুটপাতের ব্যবসায়ী—সবাই চাঁদাবাজির শিকার। তিনি বলেন, “রাতে ফোন দিয়ে টাকা চাওয়া হয়, সকালে লোক পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। সাড়ে ১৫ বছর নির্যাতিত হয়েও আমরা দেশ ছাড়িনি।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান জানাতে হবে। ভয়ভীতি দেখানো হলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না।”
মা-বোনদের সম্মানহানি হলে যুব সমাজের প্রতিবাদে রাজপথে নামার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই আন্দোলনের সময় এক বৃদ্ধা মাকে জড়িয়ে ধরা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন মাকে জড়িয়ে ধরলে এ আপত্তি কেন? তাদের কি মা নেই?”
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নায়েবে আমির, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জাগপার সভাপতি, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।









