২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও পাঁচ মাস বাকি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি ফুটবল নয়—বিশুদ্ধ রাজনৈতিক। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক তুলেছেন ব্রিটেনের কিছু রাজনৈতিক নেতা।
বিভিন্ন ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল থেকে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড দলকে এই বছরের জুনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের উচ্চাভিলাষ ও তার সামগ্রিক আচরণ আন্তর্জাতিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ “উপযুক্ত নাও হতে পারে।” তবে এই প্রস্তাবগুলো এখনও ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ বা ফুটবল ফেডারেশনগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থানে পরিণত হয়নি।
২০২৬ আসরের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা; স্কটল্যান্ড খেলবে ব্রাজিল, মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে। তবে রাজনৈতিক চাপের মুখে কয়েকজন ব্রিটিশ সাংসদ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় দলগুলোর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
বয়কটের আহ্বান মূলত ট্রাম্পের কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জোরালো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী পরিকল্পনা এবং ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি তার তীব্র মন্তব্য। বিরোধী নেতাদের দাবি, এমন পরিবেশে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের আনন্দ ও শান্তি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ এ ধরনের বয়কটকে কতটা সমর্থন করবেন, তা স্পষ্ট নয়। স্কটল্যান্ডের কিছু গোষ্ঠীও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যদিও তারা মূলত নিজেদের দলকে মাঠে দেখতে চায় বলেই জানিয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ফিফা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করেছে। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডসহ অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটের ঘোষণা দেয়নি। ফিফা বা আয়োজকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।









