গৃহস্থালিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই সপ্তাহ ধরে লাগাতার বাড়ছে। ঢাকার চারটি খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি পাচ্ছেন না। ফলে ক্রেতাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে এবং বিক্রেতারাও অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিমাণ এলপিজি দিচ্ছে। “১ হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে ২০০-৩০০ সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাক গিয়ে বসে থাকে, ফলে খরচ বাড়ছে। কোম্পানিগুলো প্রতি সিলিন্ডারে ৭০–৮০ টাকা বাড়তি নিচ্ছে,” বলেন তিনি।
শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সাধারণত দাম বাড়ে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে পরিবহনে জাহাজসংকট। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ায় আমদানি ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে গত মাসে এলপিজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে সরকারিভাবে দাম সমন্বয়ের আগে বাজারে অতিরিক্ত মূল্য বাস্তবায়ন সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন সেলিম খান। তিনি বলেন, “৫০০–৮০০ টাকা বাড়তি নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। খুচরা পর্যায়ের এই বাড়তি দাম গ্রহণযোগ্য নয়।”
৪ জানুয়ারি বিইআরসির নতুন দাম ঘোষণার কথা রয়েছে। বিইআরসি এবং এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব)–এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়। কিন্তু ডিসেম্বরে মাত্র ৯০ হাজার টন আমদানি করা সম্ভব হয়েছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও জাহাজসংকটের কারণে কিছু কোম্পানি সীমিত মাত্রায় দাম বাড়াতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
লোয়াবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ জানান, ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। “সরবরাহ সংকটই বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রধান কারণ। জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা পরিবেশকদের বিইআরসি-নির্ধারিত দামে সরবরাহ করছি; খুচরা বিক্রেতাদের মূল্য নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই,” তিনি বলেন।









