নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো. সেলিম নামের এক কৃষক দল নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে ঘটনার সূত্রপাত হয়। নিহত সেলিম (৫৫) স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন এবং তিনি মৃত মো. শাহজানের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তর ও এলাকার কয়েক কিশোর—সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র–জুনিয়র নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারতে থাকে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। শোরগোল শুনে দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, তখন অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে মাথায় গুরুতর আঘাত করে, যার ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করে জানান, পূর্ব বৈরিতার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনও একই দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
সুধারাম থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, সিনিয়র–জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সেলিম ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আকস্মিক আঘাতের ফলে তিনি মাটিতে পড়ে মারা যান। মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









