সংসদ হবে জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু : প্রধানমন্ত্রী

ষ্টাফ রিপোর্টার

এখন থেকে জাতীয় সংসদই দেশের যুক্তি-তর্ক, নীতি–নির্ধারণ ও সব জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্র হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি স্বাগত বক্তব্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

স্বাগত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অসংখ্য শহীদের রক্ত, অসীম ত্যাগ ও নির্যাতিত মানুষের সাহসিকতার বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের। বলেন, গুম, খুন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার মানুষের দৃঢ় অবস্থানেই আজ একটি দায়বদ্ধ সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন, কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি, তবে তার ভূমিকা জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকেই বিএনপি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তিনি জানান, দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সব দলের সহযোগিতা চান।

বিগত শাসনামলের পরিণতি হিসেবে সাবেক স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কেউই অধিবেশনে উপস্থিত নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ কারাগারে, কেউ পলাতক—এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতিতেই এই অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *