সংসদ নেই, স্পিকার নেই; নতুন সরকারের শপথ কে পড়াবেন?

বিবিসি বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করবে কোন দল—এ প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট। যে দল বা জোট সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসনে জয়ী হবে, তারাই নতুন সরকার গঠন করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা—১৫০টির বেশি আসন—অর্জন করেছে।

তবে এখন প্রশ্ন উঠছে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর কোন ধাপে শুরু হবে। সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক শুরু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাধারণত ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন করার পর তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে হবে। ফলে প্রজ্ঞাপন হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার ধারণা অনুযায়ী নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ১৮ ফেব্রুয়ারির পরেও নাও যেতে পারে। পাঁচ ফেব্রুয়ারির ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। তিন দিনের মধ্যেও হতে পারে। ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারিতে শপথ হতে পারে। আমার মনে হয় না এটি ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।” অর্থাৎ সবকিছু ঠিক থাকলে নির্বাচনের ছয় দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তবে শপথ পাঠ করাবেন কে—এ প্রশ্নটি এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ নেই, স্পিকার নেই, এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাবন্দি। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে এর সমাধান উল্লেখ আছে। অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কাউকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন। আর যদি নির্ধারিত ব্যক্তি তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে না পারেন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল পাঁচ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। তার ভাষায়, “আমাদের সামনে দুটি বিকল্প আছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি—উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন। আর যদি তা না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ গ্রহণ করাবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে, যা আমরা চাই না। আমরা চাই নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে।”

সামগ্রিক বিবেচনায়, আনুষ্ঠানিক ফল গেজেটে প্রকাশ পেলেই শপথ গ্রহণ ও নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *