ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবারের মধ্যেই দেশটিতে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। সম্ভাব্য হামলার সময়সূচি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে হামলা চালানোর বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক চাপ ও সামরিক প্রতিক্রিয়া—এসব ঝুঁকি হোয়াইট হাউস গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এদিকে সম্ভাব্য হামলা বা ইরানের পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আগে এমন প্রস্তুতি পেন্টাগনের নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে সেনা সরানো মানেই যে হামলা অবশ্যম্ভাবী—তা নয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ থাকলেও কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের যে হামলা হয়েছিল, সেটি ছিল “সফল অভিযান”, তাই তেহরানের উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় আসা।
সিবিএসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানান, বুধবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান ইস্যু নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের দাবি, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে।
অন্যদিকে, আলোচনার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা জোরদার অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাকর হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক মহলে শঙ্কা বাড়ছে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে।









