জামায়াত আমির

যে কোনো মূল্যে তিস্তা বাস্তবায়ন হবে, কারো রক্ত চোখ পাত্তা দেব না

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের স্বার্থে এবং অঞ্চলটির উন্নয়নের জন্য যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ধরে বেইমানি করেছে, আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তিস্তা যে বরকত ও সম্ভাবনার উৎস হওয়ার কথা ছিল, তা অবহেলায় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। এখন তিস্তাকে কেন্দ্র করেই উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ তৈরি করা হবে, নদীভাঙনে কাউকে নিঃস্ব হতে দেওয়া হবে না।

বক্তব্যে তিনি বলেন, মতলববাজ রাজনীতির অবসান ঘটানোর সময় এসেছে। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে যারা জাতিকে প্রতারণা করেছে, তাদের বিদায় দেওয়ার সুযোগ এখন জনগণের সামনে এসেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজনীতিকে ব্যবসা, চাঁদাবাজি বা মামলাবাজি থেকে মুক্ত করে স্বচ্ছ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে। তরুণদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চান তিনি এবং জানান, বেকার ভাতার নামে কাউকে অপমান করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বুড়িমারি স্থলবন্দর আধুনিকায়নের মাধ্যমে বঞ্চিত এলাকায় উন্নয়নের সূচনা হবে। দেশের যেকোনো সংকটে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেন, কোনো ধর্মীয় বিভাজন থাকবে না, সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে। ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের উপযুক্ত বেতন না থাকায় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, কোনো মায়ের প্রতি অবমাননা সহ্য করা হবে না; প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত।

ডা. শফিকুর রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার দাবি, এটি শুধু জামায়াতের নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার পথ।

সমাবেশে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সাতজন প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দেন তিনি। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও সদর-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ জনসভায় জোটভুক্ত দলগুলোর স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শুরুর আগেই হেলিপ্যাড মাঠ এবং আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল থেকেই তিস্তা ব্যারাজ এলাকা নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে; কেউ হেঁটে, কেউ অটোভ্যান কিংবা বাস-ট্রেনে করে সভাস্থলে আসেন। দুপুর ২টায় হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *