শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও জনমতের প্রতিফলন ঘটবে এমন নির্বাচন চান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে ভয়-ভীতি থাকবে না। মব তৈরি করে জনমত প্রভাবিত করার যুগ শেষ—মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।”
মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসনের পীরেরবাগে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইবনে সিনা হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গ হলে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়। “মব গঠন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অধিকার কারও নেই। আমরা এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আশা করি এ ধরনের মব রাজনীতি এখানেই থেমে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের সামনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নিজেদের বক্তব্য, অঙ্গীকার ও চরিত্র তুলে ধরবেন। ভোটাররাই অতীত ও বর্তমান বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবেন কার ওপর ভবিষ্যত দায়িত্ব অর্পণ করবেন। “আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট—দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ফ্যাসিবাদ আর মাথা তুলতে পারবে না।” জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুই প্রক্রিয়াতেই অংশ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। ভোটারদের নির্ভয়ে পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন। যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার মেনে অভিনন্দন জানাতে হবে।”
সতর্ক করে তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের মতো অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে জাগ্রত যুবসমাজ তা মেনে নেবে না। “যুবকেরাই বুকের রক্ত দিয়ে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রেখেছে। অনেকেই ১৮ বছর বয়সে ভোটাধিকার পেলেও আজ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেনি—এটাই বড় বঞ্চনা।”
তিনি আরও বলেন, “ভোট একজন নাগরিকের সর্বোচ্চ অধিকার। কেউ যদি আবারও ‘এবারও আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব’ ধাঁচের আচরণ করে, যুবসমাজ ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।” শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা-১৫–এ নারী-পুরুষ কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা আমাদের ভাই-বোনদের ওপর আক্রমণ করেছে, তারা কি মায়ের সন্তান নয়? তাদের ঘরেও কি মা-বোন নেই?”
শেষে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচনের যে অঙ্গীকার করেছেন তা রক্ষা করতে হলে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনায় জড়িতদের পরিচয় নয়, আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।”









