ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তাদের শক্তিশালী একটি বিমানবাহী রণতরী-নির্ভর সামরিক বহরকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। এ পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-কে কেন্দ্র করে গঠিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর ত্যাগ করেছে। বহরটিতে বিমানবাহী রণতরীর পাশাপাশি ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট ও সাবমেরিনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এলাকায় পৌঁছে যাবে।
সেন্টকমের আওতায় মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা এবং মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ার মোট ২১টি দেশ রয়েছে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক, কূটনৈতিক ও বেসামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্তটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী সহিংসতা ও মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয়গুলোর পর ওয়াশিংটন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে প্রয়োজন হলে তারা আঞ্চলিক সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।
একই সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কিছু সামরিক ঘাঁটি থেকে কর্মী সরিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে, উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের জন্য কিছু আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে, যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সমীকরণের পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতা জোরদার হয়েছে।
বিশ্বরাজনীতিতে এই রণতরী মোতায়েন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর ফলাফল কী হবে তা এখনই বলা না গেলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরান জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে তার আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে আংশিক সেনা সদস্য সরিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরানের সেনা ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনার একটি সম্ভাব্য হামলার তালিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রধান বিচারপতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান আপাতত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রেখেছে।
সত্তরের দশকের ইসলামী বিপ্লবের পর বর্তমান পরিস্থিতিকে ইরানের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া অসন্তোষ ক্রমেই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, আর প্রতিদিনই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটিতে সামগ্রিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।









