ইএএসডির জরিপ

বিএনপি জোট ২০৮, জামায়াত জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন

ষ্টাফ রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) একটি নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে, যেখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে রেখেছে সংস্থাটি। তাদের জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি জোট সর্বাধিক ২০৮টি আসনে জয়ী হতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৪৬টি, জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয় পেতে পারেন।

সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের থ্রিডি সেমিনার হলে এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার। সংস্থাটি দাবি করে, ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত এ জরিপ এবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জনমত জরিপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় নমুনার।

জরিপটি দেশের ৩০০টি আসনে প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) পদ্ধতিতে করা হয়। গ্রাম ও শহর—উভয় অঞ্চল থেকে সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মোট ২ হাজার ৭৬৬টি পিএসইউ নির্বাচন করা হয় এবং প্রতিটি পিএসইউ থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৫টি পরিবার বাছাই করে একজন করে যোগ্য উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহ চলে ১৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

উত্তরদাতাদের মধ্যে পুরুষের হার ছিল ৬৪ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৬ শতাংশ। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ। পেশার ভিত্তিতে সর্বাধিক ২১ দশমিক ৯ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী, এর মধ্যে ছোট ব্যবসায়ীদের হার বেশি। কৃষি, গ্রামীণ শ্রমজীবী, গৃহস্থালি কাজ, অনানুষ্ঠানিক খাত এবং শিক্ষার্থীরাও উল্লেখযোগ্য হারে অংশ নেন।

রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে বিএনপি সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে, আর জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। এনসিপির সমর্থন ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির সমর্থন ৪ শতাংশ। নারী ভোটারদের মধ্যেও বিএনপির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি—৭১ দশমিক ১ শতাংশ নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করেছেন।

আঞ্চলিকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বিএনপি জোটের সর্বোচ্চ সমর্থন পাওয়া গেছে। বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে আছে। রংপুরে জাতীয় পার্টি সীমিত হলেও কিছুটা সমর্থন পেয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, আসন্ন নির্বাচন শেষে বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে পারবে। তাদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ এ বিষয়ে আশাবাদী। এছাড়া ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা নিজেদের আসনে বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী।

আওয়ামী লীগের কিছু সাবেক ভোটারও এবার দল পরিবর্তন করেছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ঝুঁকেছেন এবং বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য দলকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন।

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান—মোট ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে পছন্দের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ১৪ শতাংশ এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে মত দিতে চাননি।

ইএএসডির উপস্থাপন অনুযায়ী, ২২টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। সংস্থাটি বলছে, তাদের জরিপে দেশের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও বিএনপির প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *