বিএনপি চাইলে থাকব রাষ্ট্রপতি পদে থাকবেন সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি মনে করে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, তাহলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন; আর দলটি না চাইলে তিনি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে দাঁড়াবেন। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিদেশি গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর আর দায়িত্বে থাকতে চান না— এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথাটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। গত আঠারো মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে মানসিক চাপ ও নানা অপমানজনক আচরণের কারণে তার মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি তখনকার অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঘটনা হঠাৎ করেই জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে তাকে জানানো হয় যে, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসতে পারেন। দুপুর বারোটার দিকে জানানো হয় প্রস্তুতি চলছে। তখনও তারা পুরো পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। পরে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে যে তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। মাত্র ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সেদিন বিকেল তিনটার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান তাকে সবকিছু অবহিত করেন। সশস্ত্র বাহিনীর অন্য শাখা থেকেও বিষয়টি জানানো হয়। পরে ওয়াকার-উজ-জামান সংবাদমাধ্যমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন, যা রাষ্ট্রপতিও টেলিভিশনে দেখেন। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা বঙ্গভবনে এসে তার সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

তিনি জানান, তখন তারা প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় ছিলেন। কী করা উচিত সে বিষয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডাকা হবে। সেনাবাহিনীর একটি দল সেই কাজে নিয়োজিত ছিল। বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজনকে পাওয়া গেলে তাদের নিয়ে আবার বঙ্গভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে— তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। নানা বিবেচনায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারই হবে সবচেয়ে উপযোগী ব্যবস্থা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তায়। পরে আইনবিদ আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। রাতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *