প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের গোলমাল মিটে যাবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যমান সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। রমজানের আগেই ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং ভোটের দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন নির্বাচনে ফাউল করতে না নামেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্বাচনী পরিবেশ, নতুন দল নিবন্ধন, জাতীয় পার্টিকে সংলাপে আমন্ত্রণ, পোস্টাল ভোট, প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি, ইসির প্রস্তুতি ও বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সিইসি বলেন, “১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেও নানা গোলমাল হয়েছিল। তবে নির্বাচনের সময় এলে সব শান্ত হয়ে যায়। এবারও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে নির্বাচন কমিশন সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে।”
তিনি জানান, কানাডা সফরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। তারা ইসির ওপর আস্থা পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসি কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক করতে চায় এবং কী ধরনের আইন সংস্কার করা হচ্ছে—তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রবাসীদের আস্থা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সিইসি বলেন, “আমার উপস্থিতি প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। তাদের জন্য পোস্টাল ভোটিং চালু করতে যাচ্ছি, যা হবে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এতে প্রবাসীরা সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।” তিনি জানান, কানাডার টরন্টো ও অটোয়ায় প্রবাসীরা ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। সরকারও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের সঙ্গে একত্রে আলোচনা করার বিষয়ে তিনি কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “অর্ধেক প্রবাসীই মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। কিন্তু তাদের সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করে কথা বলা সহজ নয়। আমেরিকা, জাপান বা কানাডায় এটি তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও মধ্যপ্রাচ্যে নানা কারণে তা কঠিন।”
কানাডা সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিইসি। তিনি বলেন, “আমরা যথেষ্ট সফলতা পাবো বলে বিশ্বাস করি। যেসব ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।”









