পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসসহ দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আসামি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিডিআর বিস্ফোরক মামলার প্রধান সরকারি কৌঁসুলি মো. বোরহান উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, সাক্ষ্য ও জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, কয়েকজন সাংসদ, কয়েকজন মন্ত্রী এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। আইন অনুযায়ী এ নামগুলোকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামির সংখ্যা এখন প্রায় সাড়ে আটশ’। এ মামলায় মোট সাক্ষী এক হাজার দুই শ’, যার মধ্যে তিন শ’ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দিতে শেখ হাসিনাসহ আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। মামলাটি এখনো সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েক শ’ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এ মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। এছাড়া ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল থাকে। মোট ২৮৩ জন খালাস পান।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তা নিহত হন। দেশের ইতিহাসে সামরিক বাহিনীর ওপর সংঘটিত এটিই ছিল সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা।









