সারাদেশে দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সীমা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করে জানিয়েছে, দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দিলে ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবেন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খুচরা বিক্রির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই হয় সন্ধ্যার পর, যা ব্যবসার পিক আওয়ার হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জিডিপিতে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার অবদান ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ, অথচ দোকান ব্যবসায়ীরা দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্র ৩ শতাংশ ব্যবহার করেন। গরম বাড়ার সময়ে দিনে বিদ্যুতের ব্যবহার সন্ধ্যার তুলনায় বেশি থাকে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
দোকান মালিকদের দাবি, বর্তমানে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করলে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও দোকান ভাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং মালিক-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতে চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকার ২ এপ্রিল দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পরে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সময়সীমা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা জানান, এতে তাদের ব্যবসার মূল সময় কমে যাচ্ছে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে সময়সীমা বাড়িয়ে রাত ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।









