দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখল সিন্ডিকেট, রোগীর মৃত্যু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরে ঢাকাগামী একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফা আটকে রাখার ঘটনায় জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগেও একই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। গত বছরের ১৪ আগস্ট নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ব্যাপক আলোচনায় আসে।

রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে অসুস্থ জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। তবে রোগী তোলার পর চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে স্বজনরা রাজি না হয়ে রোগীকে নামিয়ে নেন এবং পাঁচ হাজার টাকায় স্থানীয় আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে গাগ্রীজোড়া এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্য সুমন, মানিকসহ চালক পারভেজ ও সজীবের নেতৃত্বে ৭–৮ জন ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সটির গতিরোধ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট বাগ্‌বিতণ্ডার পর স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কিছু দূর এগোতেই জামতলা এলাকায় আবারও একই দল অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রোগী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রায় ৪০ মিনিট আটকে থাকার পর স্থানীয়রা সহযোগিতা করলে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার পথে জমশেদ আলী মারা যান। বিকেল ৩টার দিকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, “আমাদের কাছে টাকা কম থাকায় ৫ হাজার টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করি। এজন্য স্থানীয় চালকরা আমাদের গাড়ি আটকে রাখে। সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় নানাকে হারালাম। দায়ীদের বিচার চাই।”

অ্যাম্বুলেন্সচালক সালমানও জানান, স্থানীয় চালকদের দাবিকৃত ভাড়া ৭ হাজার টাকা না মেলায় তারা দুইবার গাড়ি আটকে চাবি কেড়ে নেয়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, “এ ধরনের অপরাধ অমার্জনীয়। যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। আমি কখনোই জোরপূর্বক রোগী নেওয়া বা গাড়ি আটকানোর নির্দেশ দিইনি।”

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর