আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। তাই ভোটের দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে সবাইকে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে এবং যে কোনো কারচুপির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিম মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার একসময় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার পুনরুদ্ধারে বহু মানুষ নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, অনেক পরিবার হারিয়েছে প্রিয়জনকে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটের অধিকারবিরোধী ষড়যন্ত্র এখনও সক্রিয়। “একটি পক্ষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, কিন্তু আরেকটি গোষ্ঠী আছে—যারা সব সময়ই ক্ষমতার সঙ্গী ছিল। গত ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের দেখা যায়নি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষমতাসীনদের পাশেই ছিল।”
ভোটের দিনের করণীয় নিয়ে তিনি বলেন, “সকাল ৭টায় কেন্দ্র খুলবে। ঠিক সেই সময়েই ভোট দেওয়া শুরু করতে হবে। কোনো দেরি নয়। মুসলমানরা তাহাজ্জুদ পড়ে জামাতে নামাজ আদায় করে কেন্দ্রে যাবেন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন।”
২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেবার খালি ব্যালট বক্স দেখিয়ে পরে পূর্ণ ব্যালট বক্স দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছিল। “এ অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় দেখা যায় কেন্দ্রের সামনে লম্বা লাইন, কিন্তু লাইন এগোয় না—এটি সিল মারা শুরু হওয়ার লক্ষণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সজাগ থাকতে হবে।”
তারেক রহমানের ভাষ্য, এ নির্বাচন শুধু আরেকটি নির্বাচন নয়; এটি জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনসভা শেষে তিনি নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ধানের শীষ প্রতীকের আটজন প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত জনতার পরিচয় করিয়ে দেন। পরে তিনি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যেখানে রাতের অনুষ্ঠানে আরেকটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায়ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি আসনের প্রার্থীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।









