ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যার পর এবার জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় এক যুবদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শালাইপুর বাজারের ঢাকারপাড়া রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত যুবদল কর্মীর নাম ইয়ানুর রহমান (৩০)। তিনি পাঁচবিবি উপজেলা যুবদলের কর্মী এবং উপজেলার ছালাখুর গ্রামের আলম মণ্ডলের ছেলে।
পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, “ইয়ানুরের সঙ্গে একই গ্রামের মোস্তফা ও ময়নুলের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পারিবারিক ওই শত্রুতার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার ধারণা করছে।”
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইয়ানুরকে শালাইপুর বাজারের রাস্তার মোড়ে গৃহীত ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বাবা আলম মণ্ডল বলেন, “মোস্তফা ও তার ছেলে ময়নুলের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। কোনো প্রতিকার পাইনি। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচার চাই।”
অন্যদিকে মোস্তফার পুত্রবধূ ইসরাত জাহান কেমি বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ কয়েকদিন আগেই মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ১০–১২ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। কোনোমতে আমরা প্রাণে বেঁচে যাই।”
পাঁচবিবি থানার ডিউটি অফিসার এএসআই নুরুন নবী বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।” ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ (৪২) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।









