মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পর ইরান সরকার বিক্ষোভে আটক অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতে পেরেছেন যে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তা বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে”— এমন বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কঠোর দমন-পীড়ন ও টানা এক সপ্তাহের ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।
মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসেছে, তবে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে। একই দিনে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ দমনের কারণে ইরান আগে থেকেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে।
এদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানায়, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। উপসাগরীয় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানে সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখতে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। সম্ভাব্য হামলা হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে “ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া” তৈরি হতে পারত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরান সরকার অবশ্য বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে তারা সহিংসতা ছড়িয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আড়ালে আরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনালাপে জানান, যেকোনো বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে ইরান আত্মরক্ষা করবে। উত্তেজনা প্রশমনে সুইজারল্যান্ড মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে, যেহেতু দেশটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষাকারী রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে।









