জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা

ষ্টাফ রিপোর্টার

গণভবনে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে তিনি জাদুঘরে পৌঁছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস এবং তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে সাজানো বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামও সঙ্গে ছিলেন।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খানসহ জাদুঘর গবেষণা দলের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা ও আগতদের জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরিয়ে দেখান।

জাদুঘরে জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ছবি, স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি, সে সময়কার সংবাদপত্রের কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবে বিশেষ প্রদর্শনীও সাজানো হয়েছে।

জাদুঘর পরিদর্শনের সময় ড. ইউনূস একটি ১৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র দেখেন। এতে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই শহীদদের স্মৃতি অম্লান থাকতেই জাদুঘর নির্মাণ সম্ভব হয়েছে—এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের অনন্য উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোনো দেশেরই এ ধরনের জাদুঘরের প্রয়োজন হোক। তবে জাতি যদি কখনো দিশাহারা হয়, এই জাদুঘর পথ দেখাবে।”

জাদুঘর নির্মাণে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অল্প সময়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া একটি বড় সাফল্য।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “স্বল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এতদূর নিয়ে আসা রেকর্ডসৃষ্টিকারী। অনেক তরুণ টানা আট মাস বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন—তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর