জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চ্যালেঞ্জ বড় হলেও তাদের জয়ের ব্যাপারে দল আত্মবিশ্বাসী।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে তরুণদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসানের পর থেকেই বাংলাদেশ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “মানুষের জন্য একটি স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।” একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করাও তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, “মেগা প্রকল্পের নামে আমরা মেগা দুর্নীতি দেখেছি। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি ধনী হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পায়নি।”
অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
দেশের নেতৃত্বে আসতে পারলে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে আরও ভালো করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। পূর্ববর্তী সরকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জ্বালানি খাত “ধ্বংস করে গেছে” বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এএফপি জানায়, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, জনগণ তাদের বড় একটি ম্যান্ডেট দেবে। তার ভাষায়, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তারা নিজেরাই পাবে, নতুন জোটের প্রয়োজন হবে না।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থই সর্বাগ্রে বিবেচনায় থাকবে।
এ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলকে আইন করে নিষিদ্ধ করার পক্ষেও নন তিনি। তবে কেউ অপরাধে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান জানান।









