শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দরে পৌঁছালে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের তীব্র বাধার মুখে পড়েন। তারা তার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাকে বন্দর ভবনে প্রবেশ করানো হয়।
পরে বন্দর ভবনের কনফারেন্স রুমে জরুরি বৈঠক শুরু হয়। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্ধুর অচলাবস্থা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বৈঠকটি ডাকা হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
বৈঠকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক, বিজিবির আঞ্চলিক কমান্ডার, চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার এবং নেভি ইন্টেলিজেন্সের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন। প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের পর তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান, যা বর্তমানে আরও কঠোর রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীরা বন্দরের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে অবস্থান নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন।
কর্মবিরতির কারণে বন্দরের জেটিতে কনটেইনার ও পণ্য হ্যান্ডলিং, ইয়ার্ড থেকে পণ্য সরবরাহ ও হস্তান্তর এবং জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনাকারী সিডিডিএল-এর পক্ষ থেকে এক বা দুইজন শ্রমিক প্রতিনিধিকে বৈঠকে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বন্দর ভবনের ভেতরে জরুরি বৈঠক চলমান রয়েছে।









