জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে দেশের ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জন্য ছয় থেকে ১২ মাস মেয়াদি স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করা হবে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষা গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়নে একটি জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তারা ঘোষণা করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেন আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইশতেহারের ‘কার্যকর প্রতিরক্ষা স্বাধীনতার পূর্বশর্ত’ অংশে সামরিক খাত নিয়ে ৯ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি পুরোনো ‘ভিশন ২০৩০’ হালনাগাদ করে নতুন ‘ভিশন ২০৪০’ প্রস্তুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষা গবেষণা জোরদারের লক্ষ্যে একটি জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জন, উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে সংস্থাটি সমন্বিত গবেষণা সহায়তা প্রদান করবে। সামরিক বাহিনীর বাজেট বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সার্বিক সামরিক সক্ষমতা, নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা সুদৃঢ় করা যায়।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আধুনিকীকরণ, পুনর্গঠন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে তাদের আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া হবে। দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে ধাপে ধাপে সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।









