বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, “একদিকে গায়ে হাত, আরেকদিকে ফ্যামিলি কার্ড—এ দুই একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা–বোনেরা আজ নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।” তিনি বলেন, “আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা—পাল্লার মাপে কোনো অন্যায় করব না, যার যা প্রাপ্য তাকে তা–ই দেওয়া হবে।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজ সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভৌত অবকাঠামো আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে এসব উন্নয়ন কাজকে জামায়াত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং জনগণের রায়ের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ।” পরিবারকেন্দ্রিক বা গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াকে মুক্তির পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নারীদের কল্যাণের কথা বললেও বাস্তবে তাদের ওপর নির্যাতন ঘটে—এটি সমাজের জন্য লজ্জাজনক।” তিনি মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানাতে আহ্বান জানান।
তিনি যুবসমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেও সংঘাতে না জড়ানোর পরামর্শ দেন।
সভা জুড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে স্লোগান ওঠে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াত নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করছে। যশোরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, যশোর-১ আসনের প্রার্থী মাও. আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাড. গাজী এনামুল হক, ভিপি আব্দুল কাদের, অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।









