ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) শেষ পর্যন্ত জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যাচ্ছে না। শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইএবির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে দলীয় প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন এবং তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
এ ঘোষণার আগে সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী আন্দোলনের এক কেন্দ্রীয় নেতা কালবেলাকে জানান, তারা চূড়ান্তভাবে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটে থাকছেন না। তিনি বলেন,
“আমরা যেই উদ্দেশ্যে এক হয়েছিলাম, বাকি ১০ দল সে অঙ্গীকার রাখেনি। বিশেষ করে ‘ওয়ান বক্স ভোট’ নীতি ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু একটি বিশেষ দল একক কর্তৃত্ব দেখাচ্ছে। তাই আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এগোতে চাই।”
ঐক্য প্রক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলন থাকবে কি না—এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনভর নানা আলোচনা-গুঞ্জন চলে। এদিন দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক হলেও সেখানে যোগ দেয়নি আইএবি। বৈঠকের পর জামায়াত নেতারা জানিয়েছিলেন, রাতের সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধির উপস্থিতির সম্ভাবনা আছে। কিন্তু তারা না আসায় বিচ্ছেদের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। স্বাভাবিকভাবেই সবার দৃষ্টি ছিল আইএবির আজকের সংবাদ সম্মেলনের দিকে।
তবে সমঝোতার আশা এখনো ছাড়ছে না অন্যান্য দল। জামায়াতসহ কয়েকটি দলের নেতারা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত আলোচনার দরজা খোলা থাকবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ কালবেলাকে বলেন, “ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকতে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আমাদের আমির মাওলানা মামুনুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
একই দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আলোচনা এখনো চলমান। আমরা আশাবাদী যে ইসলামী আন্দোলন ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে।”









